কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘গরু-ছাগলের খোঁয়াড়
ফ
ফজলে রাব্বি শুভ : জনতার দৃষ্টি
আপডেট: 40 minutes ago

শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ ও গ্রামীণ খোঁয়াড়ের ইতিহাস: বর্তমান প্রজন্মের কাছে যা আজ এক অজানা অধ্যায়
কালের বিবর্তনে গরু-ছাগলের খোঁয়াড় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
খোঁয়াড় হচ্ছে জমির ফসল অথবা বসতবাড়ির বাগান বিনষ্টকারী গবাদিপশু আটক রাখার গারদ বিশেষ। ফসল বিনাশ করার আশঙ্কা রয়েছে, এমন অবাধে বিচরণকারী গবাদিপশুও খোঁয়াড়ে আটক রাখার বিধান রয়েছে।কৃষি ও উৎপাদনব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে এ ব্যবস্থা অনেকটা বিলুপ্তির পথে। অথচ একসময় সর্বত্র ছিল গ্রামীণ এই ব্যবস্থার চল। মোগল আমলে যখন সরকারি আয়ের প্রধান উৎস ছিল কৃষি, তখন জমির ফসল রক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৪৭ ধারায় ৩৪ নং ক্রমিকে ইউনিয়ন পরিষদের তত্বাবধানে খোয়ার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার কথা বলা আছে।
বোধশক্তিহীন প্রাণীকে মানুষের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অমানবিক মনে হবে।তবে এককালে খোঁয়াড়ের সঙ্গে কৃষকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তা গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞরা হয়তো কিছুটা জানেন।আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে খোঁয়াড় প্রায় বিলুপ্ত। অথচ কাগজে-কলমে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে খোঁয়ার থাকার বিষয়টি বেশিরভাগ মানুষই জানেন না। কিন্তু ঔপনিবেশিক আমলের এই খোঁয়াড় ব্যবস্থার উদ্ভব কীভাবে, বাংলাদেশে কি এখনো খোঁয়াড়ের অস্তিত্ব আছে? কীভাবে চলছে এসব খোঁয়াড়, সেগুলো চালাচ্ছেই বা কারা
চিন্তিত মুখে দাওয়ায় বসে আছে রহিম মিয়া,তার একমাত্র সম্বল একটি মহেশের খোঁজ নেই। সারাদিন খোঁজার পর বাড়ি ফিরে আমিনা জানায় গরুকে মোহনপুর গ্রামের সুলতানের খোঁয়াড়ে দেওয়া হয়েছে। শরৎচন্দ্রের 'মহেশ' ছোটগল্পে এভাবেই উঠে আসে খোঁয়াড়ের কথা। কিন্তু এই খোঁয়াড় আসলে কী? এ যুগে কয়জনই বা খোঁয়াড়ের কথা জানেন।
নিম্নবর্গের সমাজ ব্যবস্থার উপেক্ষিত অনেক বিষয়ের মতোই খোঁয়াড় নিয়েও তেমন আলোচনা নেই। সহজ ভাষায় বললে খোঁয়াড় হলো গবাদি পশুর জেলখানা। শরৎচন্দ্রের মহেশ ছিল দরিদ্র গফুরের পালিত এক নিরীহ গরু। খাবারের আশায় অন্যের বাগানে ঢুকে গাছপালা নষ্ট করে মহেশ। বোধশক্তিহীন কোনো প্রাণী এমন কাজ করতেই পারে। কিন্তু তাই বলে তাকে মানুষের আইনে শাস্তি দেওয়া কেমন বিধান।
ঔপনিবেশিক খোঁয়াড় ব্যবস্থা
আগে মাইকিং করে খোঁয়ারের ডাক দেওয়া হলেও এখন তেমন দেখা যায় না। বর্তমানে কেউ খোঁয়ার নিতে আগ্রহী নয় বলে আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদেরই পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইজারায় সংগৃহীত অর্থ জমা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।
কেন বিলুপ্ত হচ্ছে খোঁয়াড়
খোঁয়াড় থেকে আর্থিক লাভ না হওয়াই খোঁয়াড় বিলুপ্তির মূল কারণ। এখন আর হাল দিতে বা পরিবহনের কাজে গরু-মহিষের দরকার পড়ে না। দুধ আর মাংসের জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে গাভী ও ষাঁড় লালন-পালন করা হয়। আলাদা ঘর নির্মাণ করে সেখানেই গরু-ছাগল পালন করেন গবাদি পশুর মালিকরা। খাওয়ানো হয় পোল্ট্রি ফিড ও বিশেষ খাবার। এছাড়া ধানের আবাদ বিস্তৃতি লাভ করায় জমি আর অনাবাদি থাকছে না। ফলে আগের মতো গোচারণ ভূমিও নেই।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে খোঁয়াড় ব্যবস্থা অমানবিক মনে হবে। তবে এককালে খোঁয়াড়ের সঙ্গে কৃষকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দরিদ্র কৃষকদের খোঁয়ারের অত্যাচারে কী পরিমাণ ভুগতে হতো তা গ্রামাঞ্চলে বয়সে অভিজ্ঞরা হয়তো কিছুটা জানেন।
আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে খোঁয়াড় প্রায় বিলুপ্ত। অথচ কাগজে-কলমে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে খোঁয়ার থাকার বিষয়টি বেশিরভাগ মানুষই জানে না। কিন্তু ঔপনিবেশিক আমলের এই খোঁয়াড় ব্যবস্থার উদ্ভব কীভাবে? বাংলাদেশে কি এখনো খোঁয়াড়ের অস্তিত্ব আছে, কীভাবে চলছে এসব খোঁয়াড়, সেগুলো চালাচ্ছেই বা কারা।
এই বিভাগের আরও খবর
এই বিভাগে আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

